নিজস্ব প্রতিনিধি ২৩ জুলাই ২০২৬ , ৭:১৬:১৮ প্রিন্ট সংস্করণ
রাষ্ট্রের সম্পদ ব্যবহার করে ব্যবসা চলছে পুরোদমে, কিন্তু রাষ্ট্রই বঞ্চিত নিজের প্রাপ্য থেকে। বরিশালে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের প্রায় আড়াইশ কোটি টাকা বাজারমূল্যের সরকারি জমিতে ১৩টি পেট্রল পাম্প বছরের পর বছর বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও, ইজারা মূল্য পুনর্নির্ধারণকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলার জটিলতায় ১১ বছর ধরে কার্যত থমকে আছে সরকারের রাজস্ব আদায়। ফলে কোটি কোটি টাকার সরকারি পাওনা আদালতের নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ঝুলে থাকলেও বাণিজ্য থেমে নেই একদিনের জন্যও।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বরিশালের বিভিন্ন এলাকায় সওজের ২০৭ শতাংশ জমির ওপর গড়ে ওঠা ১৩টি পেট্রল পাম্প দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমি ব্যবহার করে আসছে। ২০০৪ সাল থেকে নামমাত্র ইজারায় জমি ব্যবহার হলেও ২০১৫ সালে সরকারের বিদ্যমান ভূমি নীতিমালা অনুযায়ী মৌজা মূল্যের শতকরা ৭০ শতাংশ বিবেচনায় ইজারা মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতের শরণাপন্ন হন পাম্প মালিকরা। এরপর থেকেই রাজস্ব আদায় কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।
সওজ সূত্র বলছে, সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী ২০২২ সালেও ইজারা মূল্য পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছে। বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বছরে ২০ লাখ টাকারও বেশি ইজারা পাওনা রয়েছে। দীর্ঘ ১১ বছরে সেই বকেয়ার পরিমাণ কয়েক কোটি টাকায় পৌঁছেছে। কিন্তু মামলার নিষ্পত্তি না হওয়ায় রাষ্ট্র তার ন্যায্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যদিও সরকারি জমিতে বাণিজ্যিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রকৌশলীরা বলছেন, ইজারা মূল্য কোনো ব্যক্তির খেয়ালখুশিতে নির্ধারণ করা হয় না। সরকারের ভূমি নীতিমালা, বাজারদর, শ্রেণিভিত্তিক মূল্যায়ন এবং প্রযোজ্য বিধিমালার আলোকেই ইজারা পুনর্নির্ধারণ করা হয়। এ খাত থেকে আদায় হওয়া অর্থ দেশের সড়ক উন্নয়ন, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় হয়।
বরিশাল পেট্রল পাম্প ও ট্যাংক-লরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আকবর বলেন, একতরফাভাবে ইজারা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে মালিকরা আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন। আদালত যে রায় দেবেন, সেটিই তারা মেনে নেবেন।
অন্যদিকে সওজ বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম জানান, বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন। আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী বকেয়া রাজস্ব আদায়সহ পরবর্তী সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আদালতের সিদ্ধান্তের বাইরে অধিদপ্তরের কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ নেই।











