• ঢাকা, বাংলাদেশ    
  • শুক্রবার , ৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ,১৭ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • অপরাধ

    বহুরূপী প্রশাসনে নতুন মুখোশ কে এই যুগ্মসচিব মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম?

      নিজস্ব প্রতিনিধি ৫ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১১:১৩:৫৪ প্রিন্ট সংস্করণ

    বাংলাদেশের আমলাতন্ত্রে বহুরূপী আচরণ, তদবির-নির্ভর বদলি এবং অস্বচ্ছ প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে নতুন করে আলোচনায় আসছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বর্তমান যুগ্মসচিব মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম। ফ্যাসিস্ট ও আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি দুদকের পরিচালক এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আর সেই সময় থেকেই তার বিরুদ্ধে ঘুষ, নিয়োগ-বাণিজ্য, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের বিস্তৃত অভিযোগ উঠে আসে।

    দুদকে দায়িত্ব পালনকালে বরখাস্ত হওয়া উপপরিচালক মাহবুব আলম ও আবু বকর সিদ্দিকের ভাগ্নেসহ একটি গোপন সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন মনিরুল। অভিযোগ রয়েছে, এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তদন্ত প্রভাবিত করা, ফাইল আটকে রাখা এবং আর্থিক লেনদেন ছিল নিয়মিত ঘটনা। দুদকের অভ্যন্তরে ব্যাপক অসন্তোষের পর তার বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির লিখিত অভিযোগও জমা পড়ে।

    পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের তদবিরের মাধ্যমে তিনি বদলি হন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) পদে। সেখানে গিয়ে আরও বড় পরিসরে নিয়োগ বাণিজ্য পরিচালনা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে বৈঠকের পর ৩১০ জন নিয়োগের দায়িত্ব পান মনিরুল। অভিযোগ, প্রতি পদের জন্য ১৫-২০ লাখ টাকা পর্যন্ত বাণিজ্য হয়েছে এবং এসব নিয়োগ থেকে প্রায় ৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। সন্ধ্যার পর তার বাসায় লেনদেন হতো বলেও অভিযোগকারী সূত্র জানিয়েছে।

    এই নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও দুদকে পৌঁছালে আবারও বরখাস্তকৃত উপপরিচালক মাহবুবের তদবিরে তিনি বদলি হয়ে যান বঙ্গভবনে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি পাল্টালে পুনরায় তদবিরের মাধ্যমে কেবিনেট ডিভিশনে যোগ দেন এবং সেখান থেকেই বিভিন্ন দপ্তরের বদলি-পদায়নে অস্বচ্ছ প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ওঠে।

    এমনকি দুদকের ডেস্ক নিয়ন্ত্রণে নিয়ে অভিযোগপত্র জারি, অনুসন্ধান আটকে দেওয়া ও কোটি টাকার লেনদেনের মতো সংবেদনশীল অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। মাঠ পর্যায়ে বিতর্কিত আওয়ামী লীগপন্থী কর্মকর্তাদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পদায়ন করতেও তাকে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

    যদিও বর্তমানে তিনি নিজেকে বিএনপি ঘরানার কর্মকর্তারূপে পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করছেন, তবুও অতীতের বহু আলোকচিত্রে তাকে দেখা যায় কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, এবং সাবেক সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী-উচ্চপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে অন্তরঙ্গ পরিবেশে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিচয় বদলানো এবং সুবিধাভোগী চরিত্রের কারণে প্রশাসনের অভ্যন্তরে তাকে “বহুরূপী মনিরুল” নামে অভিহিত করা হচ্ছে।

    অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ আমলে ছাত্রলীগপন্থী, আর বর্তমানে ছাত্রদল ঘরানার পরিচয়ে প্রশাসনে নিজেদের অবস্থান জোরালো করার চেষ্টা করছেন তিনি। এসব অভিযোগের ব্যাপারে মনিরুল ইসলাম কিংবা সংশ্লিষ্ট দপ্তর এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।