• ঢাকা, বাংলাদেশ    
  • বৃহস্পতিবার , ২১ ডিসেম্বর ২০২৩ ,১৯শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • শিক্ষা

    চিরিরবন্দর উপজেলা রিসোর্স সেন্টারে সরকারের নতুন শিক্ষা কারিকুলাম বিস্তরণ প্রশিক্ষণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

      স্টাফ রিপোর্টারঃ ২১ ডিসেম্বর ২০২৩ , ৭:৪৯:০৬ প্রিন্ট সংস্করণ

    দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলা রিসোর্স সেন্টারে ইন্সট্রাক্টর ফিরোজ হোসেন খান এর বিরুদ্ধে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রাপ্য সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে অনৈতিকভাবে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠছে।

    জরুরি ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জনিয়েছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষকবৃন্দ।

    জানা গেছে, চতুর্থ প্রাথমিক উন্নয়ন কর্মসূচির (পিডিবি-৪) আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সারাদেশের ন্যায় চিরিরবন্দর উপজেলা রিসোর্স সেন্টারে ৩ দিনব্যাপী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শিক্ষাক্রম বিস্তরণ প্রশিক্ষণ গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে।

    এই প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য সরকারি বরাদ্দ থেকে মোটা অংকের টাকা বাঁচিয়ে নিম্নমানের প্রশিক্ষণ উপকরণ প্রদানসহ নানাভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন ইন্সট্রাক্টর ফিরোজ হোসেন খান।

    ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেন, “চিরিরবন্দর উপজেলা রিসোর্স সেন্টারে প্রতিব্যাচে ৩০ জন করে ৩০টি ব্যাচে মোট ৯০০ জন শিক্ষককে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে”।

    প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য তথ্যপত্র, কলম, প্যাড, নেমকার্ড, পেন্সিল, ইরেজার এর জন্য বরাদ্দ ৫০০ টাকা এবং প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীদের ব্যাগ বাবদ বরাদ্দ রয়েছে ৫০০ টাকা।

    সরজমিনে দেখা গেছে, প্রশিক্ষণার্থীদের যে তথ্যপত্র সরবরাহ করা হয়েছে তার সর্বোচ্চ মূল্য ১৮০ টাকা থেকে ২০০ টাকা। এছাড়া ৫ টাকা মুল্যের একটি কলম, ৫ টাকা মুল্যের একটি নেমকার্ড, সেমিনার নোট বুক ১২০ টাকা প্রদান করা হয়েছে। ৫০০ টাকা মূল্য ব্যাগ সরবরাহের কথা থাকলেও যে ব্যাগটি প্রদান করা হয়েছে তার সর্বোচ্চ বাজারমুল্য ১৮০ থেকে২০০ টাকা।

    ইতোমধ্যে ২৬টি ব্যাচের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। এভাবে ৩০টি ব্যাচে মোট ৯০০ জন প্রশিক্ষণার্থীর নিকট থেকে তিনি সাড়ে ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার পায়তারা চালাচ্ছেন।

    তার এমন কর্মকান্ডে ভুক্তভোগী শিক্ষকদের মাঝে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
    এদিকে প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী শিক্ষকরা এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানিয়েছেন।

    এব্যাপারে চিরিরবন্দর উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর ফিরোজ হোসেন খান এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, “প্রতিজনের জন্য ২৯৪০ টাকা বরাদ্দ আছে, কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় টাকা দিতে হয়”, কাদের কাদের টাকা দিতে হয় জানতে চাইলে তিনি নাম বলতে অনিহা প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন “বরাদ্দের টাকা তুলতে গেলে অফিসেও টাকা দিতে হয়”।

    এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ কে এম শরীফুল হকের সাথে মুঠোফোন কথা বললে তিনি জানায় “এটা আমার আওতায় নয়, প্রোজেক্টের অধিনে”।