• ঢাকা, বাংলাদেশ    
  • শুক্রবার , ১৩ ডিসেম্বর ২০২৪ ,১৭ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • অপরাধ

    অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে নাটোরে এসিল্যান্ড অফিস ঘেরাও ছাত্রদের

      প্রতিনিধি ১৩ ডিসেম্বর ২০২৪ , ১:০৫:৪৫ প্রিন্ট সংস্করণ

    অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে নাটোর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার-ভূমির অফিস ঘোরাও করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের বঙ্গজল এলাকায় রানী ভাবানী রাজবাড়ি চত্বরে সহকারী কমিশনারের অফিসের সামনে এই কর্মসূচি পালন করা হয় বলে জানান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নাটোরের প্রতিনিধি শেখ ওবায়দুল্লাহ মীম।

    এ সময় সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার কৃষ্ণ চন্দ্রে বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, আদালতে মিথ্যা প্রতিবেদন প্রদান, ঘুষের বিনিময়ে জমি অধিগ্রহণ এবং ইসকনের নামে মন্দির বন্দোবস্তের অভিযোগ তোলেন আন্দোলনকারীরা।

    এ ছাড়া কৃষ্ণ চন্দকে সদর ভূমি অফিস থেকে সাত দিনের মধ্যে প্রত্যাহারের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা। দাবি মানা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

    খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আরিফুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথীসহ পুলিশ সদস্যরা।

    এ সময় তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা ঘেরাও কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন।

     

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ওবায়দুল্লাহ মীম অভিযোগ করে বলেন, “কৃষ্ণ চন্দ্র সদরে যোগদানের পর থেকে নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। জমির দলিল খারিজ করতে গিয়ে সেবা গ্রহীতারা নানা হয়রানির শিকার হয়েছেন। সরকার পতনের আন্দোলনে তিনি স্বৈরাচারের পক্ষ নিয়ে নানা অপতৎপরতা চালিয়েছিলেন।

    “এ ছাড়া অবৈধভাবে বৃন্দাবন মন্দির ইসকনকে প্রদান করেছেন। তার অফিসের স্টাফের মাধ্যমে তিনি চাঁদাবাজি করেন। রাজবাড়ি এলাকায় যারা ৪০ থেকে ৫০ বছর ধরে বসবাস করে তাদের পুনর্বাসন না করেই উচ্ছেদ জন্য ভয়ভীতি দেখান।

    “এ ছাড়া ঘুষের বিনিময়ে জমি অধিগ্রহণসহ আদালতে চলমান মামলায় বিভিন্ন মিথ্যা রিভিউ প্রতিবেদন টাকা-পয়সার বিনিময়ে আদালতে পেশ করেন, যার প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। এর আগেও উনাকে সরাসরি বসার জন্য বলেছিলাম, কিন্তু বসেননি। আজকেত পালিয়ে গেলেন।”

    ছাত্রদের অভিযোগকে অবান্তর দাবি করে কৃষ্ণ চন্দ বলেন, “এসব বিষয় আমার ধারণার বাইরে। এই সম্পর্কে আমার কোনো কমেন্ট নাই। এগুলো সব অবান্তর অভিযোগ।”

    মোবাইল ফোনে তিনি বলেন, “উচ্ছেদ কার্যক্রম ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে করা হয়েছে। আর কোর্টের আদেশ বলে ইসকন রায় পেয়েছে, তাদের নামে রেকর্ড হয়েছে। যা আমার আগের কর্মকর্তা রেকর্ডটা সংশোধন করে দিয়েছেন। এখানে আমার সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই।”

    নিজ কার্যালয় থেকে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, নাটোর থেকে পালানোর সুযোগ নেই। অফিসের কাজে বাইরে আছেন তিনি।

    অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আরিফুল ইসলাম বলেন, “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বেশ কয়েকজনের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। ভূমি অফিসের কাজ-কর্মে দুর্নীতির বিষয়ে, স্থানীয় জমি-জমা, সরকারি সম্পদের বিষয়সহ আরও কিছু প্রাসঙ্গিক কথা তারা আমাদের বলেছেন।

    “দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স। সব ভূমি অফিস যেন স্বচ্ছতার সঙ্গে দুর্নীতিমুক্তভাবে সেবা দেয়, সেই ব্যবস্থা আমরা ইতিমধ্যে নিয়েছি। যারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিব।”

    তবে উচ্ছেদের ঘটনায় অসহায় ও গৃহহীন কেউ থাকলে তাদের উপযুক্ত পুনর্বাসন করে সরিয়ে নেওয়া হবে বলে জানান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক।

    এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের তোলো অভিযোগের বিষয়ে যাচাই বাছাই করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হবে বলে জানান আরিফুল ইসলাম।