নিজস্ব প্রতিনিধি ১১ মার্চ ২০২৫ , ১১:২৩:১৭ প্রিন্ট সংস্করণ
পিরোজপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী রনজিৎ দে বদলির আদেশের এক মাস পরও তার কর্মস্থল ছাড়েননি। তার বিরুদ্ধে প্রায় শতকোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও এক অদৃশ্য শক্তির বলে তিনি বারবার পুনর্বহাল হচ্ছেন, যা সাধারণ ঠিকাদারদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ, নির্বাহী প্রকৌশলী রনজিৎ দে কাজ না করেও তার পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রায় শতকোটি টাকার বিল প্রদান করেছেন। বিশেষ করে ভান্ডারিয়ার ‘ইফতি টিসিএল’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ না করেই ৮৯ কোটি টাকা বিল দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এই বিষয়ে মঠবাড়িয়া উপজেলার শিংগা গ্রামের বাসিন্দা হরিদাশ হাওলাদার শিপন গত ৬ জানুয়ারি প্রধান প্রকৌশলী বরাবর, ২৬ জানুয়ারি স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব বরাবর এবং ৫ মার্চ দুদক চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
গত বছরের ১৪ নভেম্বর সংশ্লিষ্ট বিভাগ রনজিৎ দেকে কুড়িগ্রামে বদলি করে স্ট্যান্ড রিলিজ আদেশ দেয়। কিন্তু ২৮ নভেম্বর তিনি বিভিন্ন কৌশলে তার প্রত্যাহারাদেশ স্থগিত করান। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতির আদেশে গত ৪ ফেব্রুয়ারি আবারও তাকে বদলির আদেশ দেওয়া হয়, কিন্তু রহস্যজনকভাবে তিনি এখনো স্বপদে বহাল রয়েছেন।
ঠিকাদার মো. মামুন মিয়া বলেন, “নির্বাহী প্রকৌশলী রনজিৎ দে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। বদলির আদেশ হলেও তিনি অজ্ঞাত শক্তির কারণে বহাল রয়েছেন। আমরা সাধারণ ঠিকাদাররা এই বিষয়ে শঙ্কিত।”
একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঠিকাদার বলেন, “এই প্রকৌশলী অত্যন্ত দুর্নীতিবাজ এবং অফিসে নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না। তিনি পছন্দের ঠিকাদারদের সঙ্গে আঁতাত করে কাজ ভাগিয়ে দেন। আমি প্রকাশ্যে কিছু বললে আমার সমস্যা হতে পারে।”
পিরোজপুর জেলা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। রনজিৎ দের সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফাইল মিসিং হয়েছে। তাকে সেগুলো সংগ্রহের জন্য কিছু সময় দেওয়া হয়েছে। ফাইল গুছিয়ে তিনি কর্মস্থল ছাড়বেন।”
এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ মিয়া বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি তদন্ত করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেব।”
সাধারণ ঠিকাদার ও স্থানীয় জনগণ আশা করছেন, দ্রুত এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
চলবে…











