প্রতিনিধি ১৩ ডিসেম্বর ২০২৪ , ১:১২:০১ প্রিন্ট সংস্করণ
মানিকগঞ্জ কারাগারে অনিয়ম-দুর্নীতির সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন জেলার মোহাম্মদ মাহবুব কবির। আওয়ামী লীগের প্রভাব বিস্তার করে গত দুই বছর ধরে তিনি কারাগারে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলার মোহাম্মদ মাহবুব কবির ২০২৩ সালের ১৭ জানুয়ারি মানিকগঞ্জ কারাগারে জেলার হিসাবে যোগদান করেন। এরপর থেকে তিনি কারাগারের ভেতর একটি দুর্নীতির সিন্ডিকেট বাহিনী গড়ে তোলেন। কারাগারের ভেতর তার শত শত অন্যায় অপরাধ ও অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। জেলার মাহাবুবের নির্দেশে সুবেদার আমীর হোসেন কারাগারের ওয়ার্ডে বন্দিদের বেচাকেনা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এছাড়া জেলার কারারক্ষী কামালের (১২৭৯৯) মাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। বিভিন্ন পোস্টিং বাণিজ্য, ভেতরে বন্দিদের ওয়ার্ড কাটা, টাকার বিনিময়ে জামিন এবং কারাগারের ভেতর মাদক ব্যবসা করাচ্ছেন। এছাড়া কারারক্ষী কামাল নিজেও মাদকসেবী। অপর কারারক্ষী সজীব দাস (জিডি শাখা) জেলার মাহবুবের কালো টাকা সাদা করার দায়িত্ব পালন করেন। কারারক্ষী সজীব দাস ক্যান্টিনের ঠিকাদারকে হুমকি-ধমকি দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেন এবং বন্দিদের জন্য নিুমানের খাবার সরবরাহ করে সেখান থেকেও টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন জেলার। অপরদিকে কারারক্ষী আব্দুল মান্নান (১৩১৯৭) জেলারকে ব্যবহার করে অন্যজনকে ক্যান্টিনে বসিয়ে ক্যান্টিন নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। ক্যান্টিনের আয় জেলার মাহবুব, ডেপুটি জেলার সুমাইয়া, সুবেদার সৈয়দ আমির হোসেন ও জেলার অর্ডারলি কারারক্ষী কামাল মাস শেষে বণ্টন করে তাদের পকেট ভারি করছেন। আরও জানা গেছে, মানিকগঞ্জ কারাগারে জেলার মাহবুব ছাড়াও ডেপুটি জেলার সুমাইয়ার রয়েছে বেশ আধিপত্য। ডেপুটি জেলার সুমাইয়া হাজতি বন্দিদের জামিন হলেও টাকা ছাড়া ছাড়েন না। টাকা না দিলে অনেক রাত পর্যন্ত তাদের আটকে রাখেন। তার বাড়ি গোপালগঞ্জ হওয়ায় স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে চাকরি জীবন থেকেই ঢাকা ডিভিশনে মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও বর্তমানে মানিকগঞ্জ জেলা কারাগারে কর্মরত রয়েছেন। তার স্বামী বাইরে এবং স্টাফদের কাছে ডেপুটি জেলার পরিচয় দেন এবং তাকে স্যার বলতে বাধ্য করেন। তার স্বামীর কথা না শুনলে বিভিন্নভাবে হয়রানি করার চেষ্টা করা হয়। জেলার মাহবুব এবং ডেপুটি জেলার সুমাইয়া এখনো স্বৈরাচার আ.লীগের প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন। বেশ কিছুদিন আগে মানিকগঞ্জ কারাগারে সালাম নামে স্থানীয় আ.লীগ নেতা জেলখানার ভেতরে আসেন। আ.লীগ নেতা হওয়ায় তাকে কারাগারের ভেতরে বিভিন্ন অবৈধ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়। সম্প্র্রতি এ সিন্ডিকেট বাহিনীর বিরুদ্ধে যুগান্তরে অনিয়ম-দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশিত হলেও থেমে নেই তাদের অপকর্ম। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মানিকগঞ্জ কারাগারের এক কর্মকর্তা বলেন, জেলার মাহবুব এবং ডেপুটি জেলার সুমাইয়া কারাগারের ভেতরে দুর্নীতির সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। কোনো নিয়ম-কানুনের বালাই নেই কারাগারের ভেতরে। জেলার এবং ডেপুটি জেলারের আশীর্বাদপুষ্ট না হলে কারারক্ষীদের ছুটিও মিলছে না। জেলার ও ডেপুটি জেলার যা ইচ্ছা তা-ই করে চলেছেন। নবীন নামে এক হাজতি বলেন, ‘আমি রাজনৈতিক মামলায় মাত্র ১৩ দিন কারাগারে ছিলাম। প্রথম দিন আমাকে আমদানি সেলে নেওয়া হয়। পরে আমদানি সেল থেকে টাকার বিনিময়ে ওয়ার্ড পেয়েছিলাম। ক্যান্টিনের সব জিনিসের দাম অতিরিক্ত। টাকা হলে কারাগারে আরাম-আয়েস পাওয়া যায়।’ ঘিওরের কালাম নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমার এক আত্মীয় জেলখানায় রয়েছেন। তাকে হাতখরচের জন্য ৫০০ টাকা দিতে কাউন্টারে জমা দেই। পরে শুনি ৫০০ টাকা থেকে কমিশন নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ৫০০ টাকা কাউন্টারে জমা দিলে ৪০০ টাকা দেওয়া হয়। বাকি ১০০ টাকা কমিশন বাবদ কেটে রাখেন তারা। জেলার মোহাম্মদ মাহবুব কবিরের সঙ্গে যোগাযোগ জন্য সরকারি ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি। ডেপুটি জেলার বলেন, ‘আমি কোনো বন্দিকে কোনো অবৈধ সুবিধা দেই না। দেওয়ার ক্ষমতাও নেই। সুপার আর জেলারের নির্দেশ পালন করি। আর আমার স্বামীকে সবাই দুলাভাই সম্বোধন করেন। তিনি ঢাকায় থাকেন।’ এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ কারাগারের জেল সুপার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর খান বলেন, পোস্টিংগুলো সিরিয়াল অনুযায়ী হচ্ছে। কেউ হয়তো অবৈধ সুযোগ-সুবিধা বা ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। তবে আমি আসার পর কিছুটা পরিবর্তন ঘটেছে। আর ক্যান্টিনের আয় অডিট হয়। আপনি একদিন আসেন সরাসরি কথা বলি।’











