প্রতিনিধি ৪ মে ২০২৫ , ৯:৫১:১৫ প্রিন্ট সংস্করণ
এম এইচ মুন্না: দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যখন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবৈধ সম্পদের তদন্তে ব্যস্ত, ঠিক তখনই চট্টগ্রাম কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট অফিসের রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুস সামাদের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির তথ্য প্রশাসনিক মহলে আলোড়ন তুলেছে।
বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্যমতে, সামাদ কেবল বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিকই নন, বরং দুদকের তদন্ত প্রভাবিত করতে মোটা অঙ্কের টাকা এবং একটি ‘লিয়াজোকারী সিন্ডিকেট’ ব্যবহার করেছেন।
রাজধানীর দক্ষিণখান থানাধীন ফয়দাবাদ এলাকায় চার কাঠা জমির ওপর নির্মিত একটি সাততলা ভবনের চারটি ফ্ল্যাট রয়েছে সামাদের নামে। ভবনটি যৌথ মালিকানাধীন হলেও প্রকৃত দখল ও ব্যবহার সামাদের পরিবারের অধীনেই। একই এলাকায় আরও একটি টিনশেড বাড়িও রয়েছে, যার সরকারি মূল্য ১৫ লাখ টাকা হলেও বাজারমূল্য ইতোমধ্যে এক কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
রাজধানীর বাইরেও গাজীপুর ও টাঙ্গাইলে রয়েছে একাধিক জমি ও সম্পদ, যার সরকারি মূল্য দেড় কোটি টাকার কাছাকাছি হলেও স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তাদের মতে, প্রকৃত বাজারমূল্য তার দ্বিগুণ বা তদূর্ধ্ব।
সামাদের স্ত্রী মালেকা পারভীনের নামেও রয়েছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিপুল সম্পদ। বাড্ডা, দক্ষিণখান, গাজীপুর ও টাঙ্গাইলে রয়েছে জমি, ফ্ল্যাট ও বাণিজ্যিক স্পেস। এসবের সরকারি মূল্য প্রায় ৯১ লাখ টাকা হলেও প্রকৃত বাজারদর অনুযায়ী তা কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
অথচ এই বিপুল সম্পদের উৎস সম্পর্কে সামাদের ব্যাখ্যা দুর্বল ও অসংলগ্ন। কোথাও তিনি উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়ার দাবি করেছেন, আবার কোথাও ব্যবসায়িক অংশীদারির গল্প শুনিয়েছেন। তবে জমির মালিকানা সংক্রান্ত কাগজপত্র ও তার বক্তব্যের মধ্যে ব্যাপক অমিল পাওয়া গেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো—দুদকের তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকেই সামাদ জড়িয়েছেন একাধিক ‘ম্যানেজ অপারেশনে’। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ও তার ঘনিষ্ঠজনেরা দেশের প্রভাবশালী কয়েকটি গণমাধ্যম ও চ্যানেলের মাধ্যমে তদন্ত কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন।
দুদক সূত্র জানিয়েছে, এসব প্রভাব ও লিয়াজোর চেষ্টা নথিভুক্ত হয়েছে এবং সামাদের বিরুদ্ধে শিগগিরই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।
প্রতিবেদনটি প্রশ্ন তোলে—একজন রাজস্ব কর্মকর্তার নিয়মিত সরকারি বেতন দিয়ে কি এত বিপুল সম্পদ অর্জন সম্ভব? যদি না-ই হয়, তবে এই সম্পদের উৎস কী?
এখন রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর দায়িত্ব—শুধু দলিল ঘেঁটে নয়, বাস্তব প্রেক্ষাপটে গিয়ে মাঠপর্যায়ে তদন্ত চালিয়ে দুর্নীতির মূল শেকড় উপড়ে ফেলা।
উল্লেখ্য, এবিষয়ে জানতে আব্দুস সামাদকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো উত্তর দেননি।










