প্রতিনিধি ১৮ নভেম্বর ২০২৩ , ১১:২৩:৪৯ প্রিন্ট সংস্করণ
দিনাজপুর,জেলা,প্রতিনিধি;-
দিনাজপুরের বিরলে মন্দিরের নামে টি আর প্রকল্পের টাকা ইউ পি সদস্যের আত্মসাৎ নিউজ প্রকাশের পর তদন্ত কমিটির কাছে নিজেকে নির্দোষ প্রমান করতে কৌশল অবলম্বন করে আশ্রমের টাকায় কেনা ইট ও বালু ব্যবহার করে তৈরী ল্যাট্রিনটিকে দিয়েছেন নতুন রুপ।
২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে টি,আর/নগদ অর্থ কর্মসূচীর আওতায় বিরল উপজেলার ৯ নং মঙ্গল পুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মাহাতাবপুর পূর্ব আশ্রমে ল্যাট্রিন নির্মানের জন্য ৪৭ হাজার পাঁচ শত টাকা ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়া হলে। অর্থ বরাদ্দ নির্দিষ্ট করে আশ্রমের নামে দেওয়া হলেও ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল খালেক আশ্রম কমিটির কাছ থেকে ৫ জনের কাগজ পত্র ও স্বাক্ষর নিয়ে নিজেই টাকা তুলে আশ্রমেরই চাঁদায় কেনা ইট ও বালু দিয়ে ব্যবহার করে শুধুমাত্র মিস্ত্রি ও কয়েক বস্তা সিমেন্ট কিনে কোন রকমে ল্যাট্রিনের কাজ সম্পন্ন করে। পরে কমিটির সভাপতিকে জানান যে সরকার থেকে যা বরাদ্দ ছিল তার থেকেও অনেক বেশি তিনি খরচ করেছেন তিনি নিজের পকেট থেকে।
কোন রকমে কাজ করে টাকা আত্মসাৎ করার জন্য আশ্রমের সভাপতি বাবুল রায় সহ আশ্রমের সাথে সংশ্লিষ্ট কয়েক জনের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের খবর বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হলে আশ্রমটিতে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়। চাঁদার টাকায় কেনা ইট ও বালু দিয়ে তৈরী টিনের ছাঊনি দেওয়া ল্যাট্রিনে তাড়াহুড়ো করে ছাদ ঢালাই দেওয়া হয়েছে। পূর্ববর্তী ল্যাট্রিনের পশ্চিম পাশে কিছু না থাকলেও নিউজ প্রকাশের পর এখন দু’টি প্রশ্রাব খানাও দৃশ্যমান। আগে লেট্রিনটিতে কোন প্রকার রঙ করা না থাকলেও বর্তমানে হলুদ ও কালো রঙ ব্যবহার করে সৌন্দর্য্য বাড়ানো হয়েছে।
টি আর প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ নিউজ প্রকাশের পর বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দৃষ্টিতে আসলে তিনি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছেন বলে জানা গেছে । ধারনা করা যায় আগের থেকে বর্তমান দৃশ্যমান ল্যাট্রিনটি গঠিত তদন্ত কমিটিকে আত্মসাতের বিষয়টিকে ধামা চাপা দেওয়ারই প্রচেষ্টা। এ বিষয়ে আশ্রম কমিটির সভাপতি বাবুল রায়ের সাথে মুঠোফোনে প্রকল্পের ল্যাট্রিনটির সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে নিউজ প্রকাশের পর টিনের চালা ভেঙ্গে ছাদ ঢালাই, রঙ, পাশে নতুন প্রশ্রাব খানা ইউ পি সদস্য তাড়াতাড়ি করে দিয়েছেন বলে স্বীকার করেন। এই কাজ গুলোর খরচ কে দিয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনিই প্রশ্ন রেখে বলেন আরও খরচ দেবো আমরা। তদন্ত কমিটি সম্পর্কে বললে তিনি বিষয়টি জানেন বলে জানান। কিন্তু গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটিকে সহায়তা করেন নি কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন দশের অনেকেই অনেক কথা বলবে এগুলো বাদ দেন এবং সরাসরি বসার প্রস্তাব দেন। সংবাদে তাদের বক্তব্য অসত্য লিখা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে আবারো সঠিক তথ্যের ভিত্তিতেই সংবাদের সত্যতাও নিশ্চিত করেন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট অনেকের সাথে কথা বলে জানা যায় টি আর প্রকল্প প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়ে থাকে কোন ব্যক্তিকে নয়। সুতরাং প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে প্রতিষ্ঠানের কমিটি কোন ইউ পি সদস্য নয়। আর টি আর প্রকল্প বরাদ্দের কোন টাকা তুলতে ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা অফিসের কেটে নেওয়া ভিত্তিহীন।











