নিজস্ব প্রতিনিধি ২৩ আগস্ট ২০২৬ , ১:৫৪:৫৩ প্রিন্ট সংস্করণ
ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-১ এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মুহাম্মদ আনিসুজ্জামানকে ঘিরে পিডব্লিউডি ও প্রকৌশলী অঙ্গনে গড়ে উঠেছে এক অদৃশ্য সিন্ডিকেট। তথাকথিত অধিকার আদায়ের বুলি আর সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিচয়ের আড়ালে বিগত দুই দশক ধরে ঢাকার প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার নানা তথ্য সামনে আসছে।
পেশাগত পরিচয়ে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হলেও সংগঠনের ‘আইন ও চাকরি বিষয়ক সম্পাদক’ পদটিকে হাতিয়ার বানিয়ে তিনি সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট, মন্ত্রণালয় ও পূর্ত প্রশাসনের নীতি-নির্ধারণী অলিন্দে গড়ে তুলেছেন নিজস্ব প্রভাবে ঘেরা নেটওয়ার্ক। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে একই সিন্ডিকেটে অবস্থান করে সমিতির জটিল মামলাগুলো পরিচালনার নামে আইনি ধারা-উপধারার যে ‘সূক্ষ্ম গোলকধাঁধা ’ তিনি তৈরি করেছেন, তা সাধারণ সদস্যদের স্বার্থরক্ষার চেয়ে বরং বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থসিদ্ধি এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ময়মনসিংহ পলিটেকনিক থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সংগঠনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় অর্জিত বাগপটুতা ও বিতর্কের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি সবসময়ই নিজের সিদ্ধান্তকে সর্বজনগ্রাহ্য করতে একধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করে আসছেন। বাপিডিপ্রকৌস, আইডিইবি এবং পিডব্লিউডি ইউনিটের শীর্ষ পদগুলোকে পর্যায়ক্রমে নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে প্রকৌশলী সমাজের ‘অকুতোভয় সৈনিক’ ইমেজের নেপথ্যে তিনি মূলত সংগঠনের নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্তকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নেওয়ার কৌশলই রপ্ত করেছেন।
ঢাকার কেন্দ্রস্থলে টানা দুই দশকের এই দীর্ঘ অবস্থান এবং নীতি-নির্ধারণী জায়গায় অদৃশ্য প্রভাব বজায় রাখার পেছনের কারণ নিয়ে এখন খোদ সহকর্মীদের মধ্যেই কানাঘুষা চলছে। পেশাগত মূল দায়িত্ব পালনের চেয়ে সমিতি ও মন্ত্রণালয়ের মামলা-মোকাদ্দমার ‘আইনি প্রজ্ঞা’ প্রদর্শনের নামে আসলে কতটুকু প্রকৌশলীদের কল্যাণ হয়েছে, আর কতটুকু ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত অবস্থান শক্ত করা হয়েছে, সেই হিসাব-নিকাশই এখন প্রকৌশলী সমাজের অন্দরে ডালপালা মেলছে।





