• ঢাকা, বাংলাদেশ    
  • শনিবার , ৮ মার্চ ২০২৫ ,৩রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • অপরাধ

    মেহেরপুর এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঘুষের গুরুতর অভিযোগ

      প্রতিনিধি ৮ মার্চ ২০২৫ , ৫:৪৬:৪৫ প্রিন্ট সংস্করণ

    মেহেরপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ঠিকাদাররা অভিযোগ করেছেন, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে ওয়ার্ক অর্ডার, বিল অনুমোদনসহ বিভিন্ন দাফতরিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে তাকে মোটা অংকের ঘুষ দিতে হয়। ঘুষ না দিলে ফাইল আটকে রাখা হয় এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা অসদাচরণের শিকার হন।

    ঠিকাদারদের অভিযোগ

    একাধিক ঠিকাদার জানান, প্রতিটি কাজের ওয়ার্ক অর্ডার নেওয়ার জন্য ০.৫০% এবং প্রকল্প পরিচালকের (পিডি) নাম ভাঙিয়ে আরও ০.২৫% ঘুষ দিতে হয়। এই অর্থ পরিশোধ না করলে ওয়ার্ক অর্ডার আটকে রাখা হয় এবং বিল সংক্রান্ত কাগজপত্র অনুমোদন করা হয় না। পাশাপাশি ঠিকাদারদের রূঢ় ভাষায় কথা বলে হয়রানি করা হয়।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঠিকাদার বলেন, “আমি ৭০ লাখ টাকার কাজ পেয়েছি, কিন্তু ওয়ার্ক অর্ডার পেতে আমাকে ২ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। প্রকল্প পরিচালকের খরচ বাবদ আরও ৪৫ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। এরপরও অতিরিক্ত টাকা দাবি করায় আমি দিতে অস্বীকৃতি জানাই। ফলে নির্বাহী প্রকৌশলী আমাকে তার অফিসে ডেকে গালাগালি করেন এবং আমার বিল আটকে রাখেন।”

    আরেক ঠিকাদার বলেন, “আমরা সরকারি নিয়ম মেনে কাজ করতে চাই। কিন্তু এই ধরনের ঘুষ ও হয়রানির কারণে প্রকল্পগুলোর কাজ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ঘুষের পরিমাণ এত বেশি যে, ভালো মানের কাজ করেও আমরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। নির্বাহী প্রকৌশলীর দুর্নীতির কারণে আমরা কার্যত বন্দি হয়ে আছি।”

    ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা আরও জানান, তারা সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হতে চান এবং মানসম্পন্ন কাজ করতে আগ্রহী। তবে নির্বাহী প্রকৌশলীর দুর্নীতি ও অনৈতিক চাপে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না তারা।

    উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়া

    এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

    এলজিইডি’র কুষ্টিয়া অঞ্চলের প্রকল্প পরিচালক জাহিদ ইসলাম বলেন, “আমি কোনো প্রকল্প থেকে এক টাকাও নিই না। যদি আমার নাম ব্যবহার করে কেউ টাকা নেয়, তাহলে তাকে ধরে ফেলুন। তবে আমার নাম ব্যবহার করে কারও টাকা নেওয়ার দায় আমি নেব না।”

    এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এনামুল হক পিইঞ্জ বলেন, “স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাজের ক্ষেত্রে ঘুষ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যদি কোনো কর্মকর্তা ঠিকাদারদের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ করে থাকে এবং তার বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    দুর্নীতির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

    ঠিকাদাররা দ্রুত এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, “আমরা এই হয়রানি থেকে মুক্তি চাই। সরকারি প্রকল্পের কাজ যেন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, সে জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।”

    এলজিইডি কর্তৃপক্ষের যথাযথ পদক্ষেপই এখন এই দুর্নীতির অবসান ঘটাতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।