খালেদ সিদ্দিকী, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি ৪ অক্টোবর ২০২৩ , ৪:১৭:১১ প্রিন্ট সংস্করণ
বগুড়ায় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে এক আইনজীবী সহকারী (মহুরি) মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
৩ অক্টোবর মঙ্গলবার বিকালে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কর্তৃক আটক, জেলা বার এসোসিয়েশনের আইনজীবী সহকারী (মহুরি) হাবিবুর রহমানের মৃত্যুতে তার সজ্বনরা এই অভিযোগ তুলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বগুড়া বার এসোসিয়েশনের সহকারী আইনজীবী হাবিবুর রহমান, মঙ্গলবার বিকালে কাজ শেষে বাড়ি ফেরর পথে জেলা জজ কোর্টের সামনে থেকে তাকে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা আটক করে নিয়ে যায়।
পুলিশ জানায় ২০২৩ এর আগস্টে শাজাহানপুর থানার জোরা তালপুকুর এলাকায় আলোচিত নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার ৮০ বছরের বৃদ্ধা খুকি হত্যার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য তাকে আটক করা হয়েছিল।
ডিবি হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনাটি সম্পর্কে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) স্নিগ্ধ আক্তার সাংবাদিক দের বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক, এই বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে, সেই কমিটি নির্ণয় করবে কার কতটুকু দায় রয়েছে।
তিনি আরো বলেন আমি চিকিৎসকের সাথে কথা বলেছি এখানে অত্যাচার করার কোন চিহ্ন পাইনি।
গোয়েন্দা শাখা গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সন্ধ্যার সময় মৃত হাবিবুর রহমান কে আটক করে নিয়ে আসে, ডিবি হেফাজতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সুযোগই হয় নাই। আটক করে নিয়ে আসার কিছুক্ষণ পরেই তিনি অসুস্থ বোধ করেন, অসুস্থ বোধ করলে তাকে ২৫০ সজ্যা বিশিষ্ট মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাবিবুরের মৃত্যু হয় বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
হাসপাতালের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মেডিকেল অফিসার আতিকুর রহমান জানান, সন্ধ্যা ৬.৫৫ মিনিটে বুকে ব্যথার কথা বলে সাদা পোশাক ধারী পুলিশ সদস্যরা অচেতন অবস্থায় হাবিবুরকে হাসপাতালে নিয়ে আসে, রোগী জরুরী বিভাগে আসার পর আমরা অক্সিজেন ও প্রাইমারি সিপিআর দিয়ে রোগীকে ভর্তি করে চিকিৎসার জন্য ভিতরে পাঠিয়ে দেই। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় রাত আটটা ৪৫ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যের শরীর আঘাতের কোন চিহ্ন ছিল কিনা এমন প্রশ্নে এই চিকিৎসক বলেন পেশেন্ট কাপড় পরিহিত অবস্থায় ছিল, যেহেতু বুকে ব্যথার রোগী আঘাতের বিষয়টি আমাদের মাথায় আসেনি, প্রাথমিকভাবে আমরা আঘাতের কোন চিহ্ন পাইনি।
শাজাহানপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান মৃত হাবিবুর ২০১৩ সালে জোড়া তালপুকুর এলাকার খুকির সৎ পুত্র বিপুল হত্যার এজাহার নামীয় প্রধান আসামি ছিলেন।
এ বিষয়ে বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইহান ওলিউল্লা জানান, হাবিবুরের মৃত্যুতে সদর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রেকর্ড হয়েছে, তিনি আরো বলেন বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়। এবং লাশ ময়নাতদন্ত শেষে, স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।











