• ঢাকা, বাংলাদেশ    
  • বুধবার , ৫ নভেম্বর ২০২৫ ,২রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • প্রকৌশল সংবাদ

    জয়পুরহাটে এলজিইডির ল্যাব টেকনেশিয়ান রুহুল আমিনের ঘুষ সাম্রাজ্য: টেস্টের নামে কোটি টাকার কারবার

      নিজস্ব প্রতিনিধি ৫ নভেম্বর ২০২৫ , ৪:৩৭:৪৯ প্রিন্ট সংস্করণ

    {"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":[],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"transform":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

    জয়পুরহাট এলজিইডি অফিসে চলছে এক প্রহসন। নাম মোঃ রুহুল আমিন, আইসিআরসি প্রজেক্টের অধীনে ল্যাব টেকনেশিয়ান পদে কর্মরত এই ব্যক্তি সরকারি চাকরির সীমারেখা পেরিয়ে এখন নিজেকে সম্রাট ভাবেন। পদটি প্রকল্পভিত্তিক হলেও আচরণে যেন বিভাগীয় প্রধান! যেই বিভাগে কোনো স্থায়ী ল্যাব টেকনেশিয়ানই নেই, সেখানেই রাতারাতি ক্ষমতার জাদুকাঠি হাতে তুলে নিয়েছেন রুহুল আমিন।

    ল্যাব টেস্টের নামে গড়ে তুলেছেন ভয়ংকর ঘুষ সাম্রাজ্য। ঠিকাদারদের জিম্মি করে প্রতিটি পরীক্ষায় কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদারের অভিযোগ, মাসে প্রায় শতাধিক ল্যাব টেস্ট হয় প্রতিটি টেস্টের জন্য নির্দিষ্ট হারে ঘুষ না দিলে শুরু হয় ‘রিপোর্টে ত্রুটি’ নাটক। কখনও রিপোর্ট আটকে রাখা, কখনও ফাইল গায়েব সবই তার দখলে থাকা একটি অদৃশ্য সিস্টেমের অংশ।

    একজন ঠিকাদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
    “রুহুল আমিনকে টাকা না দিলে কোনো কাজই হয় না। তিনি সরাসরি অফিসে বসে টাকা নেন, আবার বিকাশ নাম্বারেও ঘুষ গ্রহণ করেন। টেস্টের নামে এই দালালি চালিয়ে তিনি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।”

    দৈনিক গণতদন্ত-এর অনুসন্ধানে রুহুল আমিনের নিজ এলাকা টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে গিয়ে জানা যায়, সরকারি বেতনের সীমিত আয়ের বিপরীতে তার নামে- বেনামে অঢেল সম্পত্তি, একাধিক জমি ও আধুনিক বাড়ি রয়েছে। স্থানীয়রা তাকে এখন ‘এলজিইডির প্রভাবশালী কর্মকর্তা’ হিসেবে চেনেন যদিও প্রকৃত পদমর্যাদায় তিনি একজন সাধারণ ল্যাব টেকনেশিয়ান।

    অফিসে তার একচ্ছত্র আধিপত্যে বিরক্ত সহকর্মীরাও। কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। কারণ, রুহুল আমিনের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে খোদ দপ্তরের সিনিয়রদের কর্মকর্তাদেরসঙ্গে। যাদের ছায়ায় থেকে তিনি প্রকৌশলী সকল জবাবদিহিতা অগ্রাহ্য করে দাপটের সাথে দুর্নীতির রাজত্ব কায়েম করেছেন।

    প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য, স্বচ্ছতা, সঠিক পরিমাপ ও উন্নয়ন কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা সবই এখন তার ঘুষ বাণিজ্যের বলি। জয়পুরহাট এলজিইডির এই ল্যাব টেকনেশিয়ান যেন প্রকৌশল শৃঙ্খলার মুখে এক ব্যঙ্গচিত্র, যেখানে একজন অল্পপদের কর্মচারী টাকার জোরে অফিসকেই নিজের ব্যক্তিগত ব্যবসা বানিয়ে ফেলেছেন।

    সরকারি অর্থে পরিচালিত প্রতিটি টেস্টের কমিশন চলে যাচ্ছে এক ব্যক্তির পকেটে এ যেন উন্নয়নের নামে ঘুষের ল্যাব, যেখানে সততা পরীক্ষায় ফেল করেছে পুরো সিস্টেম।
    দুর্নীতি দমন কমিশন ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের এখনই উচিত রুহুল আমিনের সম্পদের উৎস তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। না হলে জয়পুরহাট এলজিইডি হয়ে উঠবে দুর্নীতির এক দুর্গ যার ভিত গাঁথা থাকবে রুহুল আমিন নামের এক ল্যাব টেকনেশিয়ানের ঘুষে গড়া সাম্রাজ্যের উপর।

    ঘুষ বাণিজ্যর উৎস সম্পর্কে ল্যাব টেকনিশিয়ান রুহুল আমিনকে ফোন করলে তিনি উত্তেজিত হয় এবং হুমকি প্রদান করে।

    এবিষয়ে জয়পুরহাট এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, কোনো ঠিকাদার আমাকে জানালো না। ঠিকাদাররা  আমাকে জানালে আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।