প্রতিনিধি ২ জানুয়ারি ২০২৫ , ৫:৪৩:০২ প্রিন্ট সংস্করণ
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নানা অনিয়ম-দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালটির স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হারুন অর রশীদ যোগদানের পর থেকে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
কথায় কথায় হাসপাতালের স্টাফদের শোকজ, সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার, কর্মস্থল ত্যাগ, উৎকোচগ্রহণসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া হাসপাতালের ভেতরে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা আর দুর্গন্ধের কারণে অতিষ্ঠ রোগী ও স্বজনরা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত আট মাস আগে উলিপুর হাসপাতালে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন ডা. মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। এর আগে তিনি দিনাজপুর সদর হাসপাতালে আবাসিক সার্জন (অর্থোপেডিক্স) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেখানেও তার অধস্তন স্টাফদের নানা রকম হয়রানি করছিলেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। নিজের প্রাইভেট প্রাকটিস ভালো করার জন্য আক্রোশমূলক সেখানেও অধস্তন কর্মচারীদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত দুর্ব্যবহার করতেন বলে জানা গেছে।
হাসাপাতালের একাধিক সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে এটি তার প্রথম পদায়ন। চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল উলিপুর হাসপাতলে যোগদানের পর থেকে তিনি একটি বলয় তৈরি করেন। এরপর শুরু হয় নানা অনিয়ম আর দুর্নীতি। গত আট মাসে ছয়জন নার্স, একজন স্যানিটারী ইন্সপেক্টর, একজন স্যাকমো, একজন ফার্মাসিষ্ট, ছয়জন স্বাস্থ্য সহকারী, সিএইচসিপি দুইজন, দুইজন এমটি (ল্যাব), অফিস সহকারী একজন ও একজন পরিচ্ছন্নকর্মীকে শোকজ করেছেন। যা অতীতের ঘটনায় এটি প্রথম এবং আশ্চর্যের। এমনকি একজনকে একাধিকবার শোকজের ঘটনাও ঘটেছে।
এ ছাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হারুন অর রশীদ যোগদানের পর থেকে হাসপাতালের ভেতরে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা আর দুর্গন্ধের মধ্যদিয়ে চলছে চিকিৎসা সেবা। এর আগে হাসপাতালটিতে প্রতিমাসে নরমাল ডেলিভারি ৮০-৯০টির মতো হতো। সেখানে ৩০-৩৫টিতে নেমে এসেছে বলে জানা গেছে। গত একমাস ধরে চরাঞ্চলগুলোর বেশিরভাগ এলাকায় টিকাদান (ইপিআই) কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় হাসপালে কর্মরত স্টাফদের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।











