প্রতিনিধি ১৩ ডিসেম্বর ২০২৪ , ১:২১:২৭ প্রিন্ট সংস্করণ
অভিযোগ করেন তারই থানার এসআই ফজলে রাব্বি। তিনিও এই নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত নৌকা থেকে টাকা আদায়ের কাজ তদারকি করতেন বলে অভিযোগ ছিল।
সময় সংবাদে এ বিষয়টিকে ঘিরে সম্প্রতি একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রচার হওয়ার পর পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়া যায়। এরপর ওসি নাজমুল হকের বদলির আদেশের আগেই একই অভিযোগে এ থানার ওসি তদন্ত ওয়ালি আশরাফ, এসআই ফজলে রাব্বি, এসআই মহিন, এসআই সবুর, ডিবি এসআই ওয়াসিমুল ইসলামসহ আরও বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে তাৎক্ষণিক বদলির নির্দেশ দেয় পুলিশ সদর দফতর।
তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার কথা উল্লেখ করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার আ. ফ. ম. আনোয়ার হোসেন খান। এসপির নেতৃত্বেই অভিযান চালিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয় ধোপাজান নদীতে চলা অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহনের কাজ।
তবে শেষ রক্ষা হয়নি ওসি নাজমুল হকের। তাকেও সবশেষ বদলির নির্দেশ দেয় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স। কিন্তু ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে তাকে সুনামগঞ্জ সদর থানা থেকে বের হয়ে ছাড়প্রত্র গ্রহণ করতে হবে বলে আদেশ দিলেও তা অমান্য করেছেন ওসি নাজমুল। ১০ ডিসেম্বরের পর থেকে তাকে স্ট্যান্ডরিলিজ দেখানো হলেও, এখনও অদৃশ্য প্রভাব খাটিয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় দায়িত্ব পালন করছেন ওসি নাজমুল।
সদর দফতরের এ আদেশের পর দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত ওসি নাজমুল হকের বদলির বিষয়টি যেমন স্বস্তির বার্তা দিয়েছিল সুনামগঞ্জবাসীকে, তেমনি এই আদেশ লঙ্ঘন করে আজ অব্দি থানায় দায়িত্ব পালন করার ব্যাপারটিতে অনেকটাই ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে গ্রামের সাধারণ মানুষের জন্য।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুনামগঞ্জ শহরের সাহেববাড়ি এলাকার এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন, ‘ওসি নাজমুল ও ডিবি ওসি একসঙ্গেই সারা রাত ধোপাজান নদীর মুখে সাহেববাড়ি ঘাটে ঘুমাতেন। তার কনস্টেবল ও এসআইরা বোট নিয়ে রাতের অন্ধকারে ও দিনের আলোতেই বালু ভর্তি বড় নৌকাগুলো থেকে ১০ হাজার করে টাকা রেখে লাইন ক্লিয়ার দিতেন। ডিসি সাহেব ও সেনাবাহিনী সদস্যরা এ নদীতে লুটপাট বন্ধ করতে অনেক অভিযান চালালেও ওসি নাজমুল ও কয়েকজন এসআই এবং কতিপয় ডিবি সদস্য নৌকাগুলো বের করতেন। কিছু সাংবাদিক নামধারীও এ নৈরাজ্যে সরাসরি যুক্ত ছিলেন।’
তিনি বলেন, ‘ওসি নাজমুল সাহেব নদীর পাড়ে ঘুমাতেন, এ বিষয়টা এলাকার সবাই জানে। প্রশাসন জানে তিনি নৌকা বন্ধ করতে সাহেববাড়ি দায়িত্ব পালন করতেন। কিন্তু তিনি তার উল্টোটা করতেন, প্রতি রাতে তিনি কমপক্ষে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা নৌকা থেকে আদায় করতেন। সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত হলে তা বেরিয়ে আসবে। তার বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে আমি ঝুঁকিতে থাকবো।’
এদিকে, সময় সংবাদের অনুসন্ধান চলাকালে অভিযোগের সূত্র ধরেই কতিপয় সংবাদকর্মীর জড়িত থাকার বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখতে চক্রটির প্রচলিত প্রক্রিয়ায় ওসি নাজমুল ও কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে মোবাইল ফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েছিল সময় সংবাদ। সংবাদকর্মী পরিচয়ে পাঠানো ক্ষুদে বার্তা পাওয়ার পরপরই তারা তাদের জবাবে ধরা পড়েন পাতানো ফাঁদে, স্পষ্ট হয় তাদের জড়িত থাকার বিষয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ।
সংবাদ প্রচারের পর গুরুত্ব দিয়ে ব্যাপারটি তদন্তের নির্দেশ দেয় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স। নেয়া হয় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা। তবে ওসির বদলির নির্দেশের পরও কীভাবে তিনি এখনও থানায় দায়িত্ব পালন করছেন, সে বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার আ. ফ. ম. আনোয়ার হোসেন খান বলেন, ‘তাকে বদলির নির্দেশের পর ১০ তারিখ পার হওয়ায় এখন সে স্ট্যান্ডরিলিজ আছে, তাকে চলে যেতে হবে, সে চলে যাবে, কিছু প্রক্রিয়া শেষ করেই তাকে পাঠিয়ে দেয়া হবে।’











