• ঢাকা, বাংলাদেশ    
  • বৃহস্পতিবার , ১৭ জুলাই ২০২৫ ,২রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • অপরাধ

    রাজউক পরিদর্শক মনিরুজ্জামানের কোটি টাকার সম্পদের পাহাড়, দুদকে অভিযোগ

      প্রকৌশল সংবাদ ১৭ জুলাই ২০২৫ , ২:৩১:৩৭ প্রিন্ট সংস্করণ

    নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজউকের (রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) জোন-৫ কাওরানবাজার অফিসের ইমারত পরিদর্শক মোঃ মনিরুজ্জামান এর বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলার বিস্তৃত অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে, যেখানে মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী ব্যক্তি সুস্পষ্টভাবে তার অবৈধ সম্পদের তথ্যসহ অভিযোগ করেছেন।

    অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মনিরুজ্জামান শুধু রাজউকের অফিসের ‘চিরাচরিত ঘুষের সিন্ডিকেট’ এর অংশই নন, বরং মহাখালী জোন-৩/১ এবং বর্তমানে জোন-৫ কার্যালয়ে ঘুষ বাণিজ্যকে পেশায় পরিণত করেছেন। সরকারি নকশা অনুমোদন, ভবন পরিদর্শন, ফাইল প্রসেসিং থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি ধাপে মোটা অঙ্কের ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ করেন না বলেই অভিযোগ। এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে একাধিক জাতীয় পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও কর্তৃপক্ষের নীরব ভূমিকায় তিনি বরাবরই পার পেয়ে এসেছেন।

    অভিযোগে আরও উল্লেখ রয়েছে, সাবেক চীফ হুইপ ও সাবেক সংসদ সদস্য আসম ফিরোজের ছত্রছায়া পেয়ে মনিরুজ্জামান বিগত ৯ বছরে কোটিপতি বনে গেছেন। ঢাকায় তার রয়েছে একটি অভিজাত ফ্ল্যাট (মূল্য প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা) ও ব্যক্তিগত গাড়ি (মূল্য প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা)। এছাড়া পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার চেয়ারম্যান বাজার এলাকায় তিনতলা ভবন, বরিশালের কাশিমপুর এলাকায় পাঁচতলা ভবন ও নিজ গ্রামে ৯৬০ শতাংশ জমি রয়েছে। ব্যাংকে রয়েছে স্ত্রী-সন্তানসহ তার নামে ও বেনামে কোটি কোটি টাকার এফডিআর। এসব সম্পদের কোনওটিরই আইনি উৎস নেই বলে অভিযোগকারী দাবি করেছেন।

    দুদকে জমাকৃত লিখিত অভিযোগের মূল পয়েন্টসমূহ:

    • সরকারি চাকরির ৯ বছরে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত কোটি টাকার সম্পদ অর্জন।
    • ঘুষ ও অনিয়মের মাধ্যমে রাজউকের কাজ ভাগিয়ে দেওয়া।
    • বিভিন্ন ঠিকাদার, জমির মালিক ও সেবা প্রত্যাশীদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়।
    • ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় অবৈধভাবে জমি-ফ্ল্যাট-অর্থ সম্পদ অর্জন।
    • সাবেক এমপির ছত্রছায়ায় থেকে নিজেকে দায়মুক্ত ভাবার প্রবণতা।

    এ বিষয়ে মনিরুজ্জামানের বক্তব্য জানতে তার মোবাইলে একাধিকবার কল ও মেসেজ পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি।

    উল্লেখ্য, রাজউকের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ ধরনের ভয়াবহ অভিযোগ সাধারণ মানুষের জন্য আতঙ্কের কারণ। বিশেষ করে নকশা অনুমোদন বা ভবন নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে ঘুষ ছাড়া কোনো সেবা না পাওয়া আজ রাজউকের প্রতিষ্ঠিত সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে, যার একটি নগ্ন উদাহরণ এই মনিরুজ্জামান।

    এ বিষয়ে দুদকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “অভিযোগ প্রাথমিকভাবে যথেষ্ট গুরুতর। অনুসন্ধান শুরু হলে তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।

    এ বিষয়ে রাজউকের চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেলে বা দুদকের তদন্ত চিঠি পেলে আমরা অবশ্যই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেব।