• ঢাকা, বাংলাদেশ    
  • মঙ্গলবার , ১৭ জুন ২০২৫ ,৩রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • প্রকৌশল সংবাদ

    নিম্নমানের বিটুমিন, হাতেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং – আলফাডাঙ্গায় এক কোটি ৩০ লাখ টাকার প্রকল্প নিয়ে ক্ষোভে

      নিজস্ব প্রতিনিধি ১৭ জুন ২০২৫ , ৯:১৬:২২ প্রিন্ট সংস্করণ

    ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাচুরিয়া ইউনিয়নে ভেন্নাতলা থেকে বেড়িরহাট পর্যন্ত সড়ক সংস্কার কাজে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। মাত্র একদিন আগেই করা কার্পেটিং হাত দিয়ে টান দিলেই উঠে যাচ্ছে – এমন দৃশ্য দেখে ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয় জনতা। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর প্রতিবাদে কাজ বন্ধ হয়ে পড়েছে এলজিইডি’র তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত এই প্রকল্প। অথচ, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদার পক্ষ দায় এড়িয়ে যাচ্ছেন।

    সূত্র মতে, এলজিইডি’র অধীনে ৩ হাজার ৭০০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সড়কটির সংস্কারে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এই কাজ বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহমুদ এন্টারপ্রাইজ। কাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের সামগ্রী, বিশেষ করে বিটুমিন ব্যবহারের অভিযোগ করে আসছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ আমলে না নিয়ে ১৪ জুন (শনিবার) দুপুরে ভেন্নাতলা অংশে প্রায় ১৫০ মিটার সড়কে কার্পেটিং কাজ চালানো হয়।

    পরদিন রোববার দুপুরে এক মোটরসাইকেল আরোহী সড়কে পড়ে গেলে স্থানীয়রা ছুটে গিয়ে পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখেন – হাত দিয়ে টান দিলেই চাপড়া চাপড়া উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং। উপস্থিত সহকারী প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে শুরু হয় তর্ক। একপর্যায়ে দুই থেকে তিন শতাধিক বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের ঘেরাও করে এবং নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়।

    ভেন্নাতলা বাজারের ব্যবসায়ী জুয়েল রানা বলেন, “শুরু থেকেই আমরা দেখছি নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ হচ্ছে। বারবার বলেছি ঠিকাদারকে, তবু সে শোনেনি। এখন মানুষের টাকা দিয়ে এমন রাস্তা বানানো হচ্ছে যেটা একদিনেই উঠে যাচ্ছে। এ কেমন উন্নয়ন?”

    স্থানীয় বাসিন্দা মেহেদী হাসান কাছেদ বলেন, “হাত দিয়ে টান দিলেই উঠে আসছে বিটুমিন। এটা কি রাস্তা বানানোর নাম? এই রাস্তা দিয়ে স্কুলের বাচ্চা থেকে শুরু করে বাজারগামী সবাই চলে – আমরা চাই এই কাজ আবার নতুন করে ভালোভাবে হোক।”

    স্থানীয় ইউপি সদস্য আমিনুর রহমান জানান, সড়কের অধিকাংশ অংশের কাজ এখনো বাকি আছে। শুরুতেই এমন নিম্নমানের কাজ করায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এমনকি প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটেছে।

    অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহমুদ এন্টারপ্রাইজের মালিক মাহমুদ দাবি করেন, “সিডিউল অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। এলাকাবাসী বিষয়টি বুঝে ওঠেনি। ৭২ ঘণ্টা না গেলে কার্পেটিং স্থায়ী হয় না। তারা ২৪ ঘণ্টা না যেতেই টেনে তুলেছে, এজন্য এমনটা হয়েছে।”

    অন্যদিকে আলফাডাঙ্গা উপজেলা প্রকৌশলী রাহাত ইসলাম, যিনি প্রকল্পটির দায়িত্বে আছেন, তিনি প্রকৌশল সংবাদকে বলেন, “গুণগত মান বজায় রেখেই কাজ করা হয়েছে। তবে স্থানীয়রা হয়তো বিষয়টি বুঝে না পেরে ক্ষুব্ধ হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

    তবে তার বক্তব্য ঘিরে উঠেছে প্রশ্ন। কারণ, যদি কাজের মান ঠিকই হয় – তাহলে একদিন পরেই রাস্তার কার্পেটিং হাত দিয়ে কেন উঠে যাবে? তদুপরি, বিটুমিনের নিচে কোন প্রকার কম্প্যাকশন বা লেভেলিং ঠিকভাবে হয়নি বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট একাধিক সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। তাছাড়া ৭২ ঘণ্টার অজুহাত তুলে দায় এড়ানো আরও একবার প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে—কাজ কি আদৌ পেশাদার তত্ত্বাবধানে হয়েছে?

    উল্লেখ্য, এখন পর্যন্ত রাস্তার নির্মাণকাজ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। এলাকাবাসীর একমাত্র দাবি—এই প্রকল্পে পুনরায় উচ্চতর মানের কাজ হোক, যেন সরকারী অর্থের অপচয় না হয় এবং সাধারণ মানুষ তাদের ন্যায্য সেবা পায়।

    প্রকৌশল সংবাদ ঘটনাটি নিয়ে এলজিইডি প্রধান প্রকৌশলীর  সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করছে।