প্রতিনিধি ৮ জানুয়ারি ২০২৫ , ১:২২:৩৯ প্রিন্ট সংস্করণ
গণপূর্ত অধিদফতরে ফ্যাসিস্ট সরকারের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের দুর্নীতির সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। একাধিক সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে, শহিদুল আলম দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে সরকারি বেতন গ্রহণ করেছেন এবং গণপূর্ত অধিদফতর থেকে ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
শহিদুল আলম, গণপূর্ত ক্যাডারের ১৭তম ব্যাচের কর্মকর্তা, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে লিয়েনে থাকাকালে সরকারি বেতন গ্রহণের জন্য অভিযুক্ত হয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে তিনি ফেরত দিয়েছেন। তবে এর পরেও তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ জমা পড়েছে। বিশেষ করে, তিনি অধিদফতরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে দীর্ঘকাল ধরে বহাল থাকলেও নিয়ম ভঙ্গ করে পদোন্নতি লাভ করেছেন।
শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করেছেন, বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম এবং দুর্নীতি করেছেন, এবং নিজস্ব ঠিকাদার নিয়োগ করে টাকার জোগান দিয়েছেন। এছাড়া, মন্ত্রণালয়ের নাম ভেঙে অসংখ্য প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন, যার মধ্যে অনেকের সাথে মন্ত্রণালয়ের কোনো সম্পর্ক নেই।
গত মে মাসে গণপূর্ত অধিদফতরের ঠিকাদার সমিতি তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ করেছিল এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিল। ঠিকাদাররা অভিযোগ করেছেন, শহিদুল আলম প্রকল্পগুলিতে তার পছন্দসই ঠিকাদারদের নিয়োগ করে এবং সব বিভাগের ডিভিশনে নিজের পছন্দের ঠিকাদারদের নিয়োগ দেন, যাতে তারা অবৈধভাবে টাকা হাতিয়ে নিতে পারে।
এছাড়া, শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে আরও কিছু গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, যার মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে শর্ত ভঙ্গের মাধ্যমে পদোন্নতি পাওয়া, লিয়েন কালীন সময়ে অবৈধভাবে বেতন গ্রহণ এবং মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট নীতিমালা উপেক্ষা করে পদোন্নতি নেওয়া অন্তর্ভুক্ত।
এই দুর্নীতির সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে, তবে শহিদুল আলম এখনও তার পদে বহাল রয়েছেন, যা নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন উঠছে।
এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদাররা পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
(চলবে…)





