• ঢাকা, বাংলাদেশ    
  • শুক্রবার , ২৮ আগস্ট ২০২৬ ,৩রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • প্রকৌশল সংবাদ

    আওয়ামীপন্থী প্রকৌশলী মহিবুল এখন বিএনপির দুয়ারে

      নিজস্ব প্রতিনিধি ২৮ আগস্ট ২০২৬ , ১০:৩৯:২৯ প্রিন্ট সংস্করণ

    ক্ষমতার গদি বদলাতেই বহুরূপী আমলার বোল পাল্টানোর দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে রাজপথে ও লালফিতার দরবারে। বিগত আওয়ামী স্বৈরাচারী আমলে অঢেল আতিশয্য, সীমাহীন অনুকম্পা আর অবারিত বখশিস কুড়ানো গণপূর্তের সেই প্রতাপশালী প্রকৌশলী মোঃ মহিবুল ইসলাম রাতারাতি ‘বিএনপি বান্ধব’ সাজতে বেপরোয়া কসরত শুরু করেছেন। কিন্তু ক্ষমতার সমীকরণে রঙ বদলালেও তার অতীতের পঙ্কিল দুর্নীতি, চাতুর্যময় জালিয়াতি আর শতকোটি টাকা পকেটস্থ করার দুর্ধর্ষ ইতিহাস এত সহজে মুছে যাওয়ার নয়।

    জানা যায়, গণপূর্তের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মেকানিক্যাল (E/M) শাখার এই চতুর কর্মকর্তা ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের শেষভাগ পর্যন্ত টানা দীর্ঘ আটটি বছর ঢাকার সবচেয়ে চর্বিযুক্ত ও লোভনীয় চেয়ার আঁকড়ে বসেছিলেন। ই/এম বিভাগ-৭ ও ১৩-এর সিঁড়ি ডিঙিয়ে বাংলাদেশ সচিবালয় সংলগ্ন অতি-গুরুত্বপূর্ণ ই/এম বিভাগ-৪ এর নির্বাহী প্রকৌশলী পদে আসন গেড়ে তিনি প্রকৌশলীক দুর্গকে নিজের ব্যক্তিগত আয়ের মেশিনে পরিণত করেন। সচিবালয়ের সুউচ্চ নিরাপত্তা প্রাচীর আর গেটপাশের জটিলতাকে ঢাল বানিয়ে তিনি সাধারণ ও সৎ ঠিকাদারদের জন্য দরপত্রের পথ রুদ্ধ করে দিতেন। এমনকি প্রতিযোগীদের আটকাতে সোমবারে টেন্ডার জমার তারিখ নির্ধারণের কুখ্যাত কৌশল ফেঁদে নিজের তৈরি সিন্ডিকেট ছাড়া বাকিদের কপাল পোড়াতেন।

    পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইনকে থোড়াই কেয়ার করে স্বনামে-বেনামে গড়ে তোলা ‘ইউনিভার্সেল এন্টারপ্রাইজ’-এর অন্তরালে প্রকৌশলী মহিবুল নিজেই বনে যান একচ্ছত্র ঠিকাদার। স্বাস্থ্য খাতের কেনাকাটায় নিয়মনীতির ধার না ধারে ৬.৫ কোটি টাকার বরাদ্দ ছিনিয়ে নেওয়া কিংবা ঢাকা মেডিকেলের ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকার কাজ কোনো টেন্ডার ছাড়াই পকেটে পুরতে গিয়ে পরিচালকের ধমক খাওয়া সবই ছিল তার নিত্যদিনের কীর্তি।

    তবে আশ্চর্যের বিষয়, আউটসোর্সিংয়ের নামে জনবল সরবরাহের ছক কেটে হতদরিদ্র প্রার্থীদের কাছ থেকে আশি হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত উৎকোচ হাতিয়ে কোটি টাকার নিয়োগ-বাণিজ্য চালান তিনি। ‘উইডু’র মতো বৈধ ও সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে কোণঠাসা করতে রাতারাতি শর্ত বদলে দেওয়া এবং গ্রাম থেকে আসা পরীক্ষার্থীদের ঢাকায় এনে উধাও হয়ে যাওয়ার মতো ধূর্ত প্রশাসনিক হয়রানিও তিনি চষে বেড়িয়েছেন।

    অনুসন্ধান বলছে, গণমাধ্যমের তোপের মুখে ২০২৪-এর শেষলগ্নে তাকে চট্টগ্রাম ই/এম বিভাগ-২ এ বদলি করা হয়। তবে চট্টগ্রামেও তার মন টিকছে না; পুরনো রাজত্ব ও প্রভাব ফিরে পেতে তিনি এখন পুরনো আদর্শের পোশাক খুলে নতুন রাজনৈতিক হাওয়ায় গা ভাসাতে মরিয়া।