• ঢাকা, বাংলাদেশ    
  • মঙ্গলবার , ২৪ জুন ২০২৫ ,২রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • প্রকৌশল সংবাদ

    পলাশবাড়ী এলজিইডিতে হেলালের ‘দাদাগিরি’

      প্রতিনিধি ২৪ জুন ২০২৫ , ৯:৪০:১৩ প্রিন্ট সংস্করণ

    গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) যেন পরিণত হয়েছে দুর্নীতির দুর্গে। ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’ সরকারের এই অঙ্গীকার এখানে এসে মুখ থুবড়ে পড়েছে। সব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়ে আছেন উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ হেলালুর রহমান হেলাল—একজন নিয়ম-নীতির বেনিয়াদি কসাই, যিনি ঘুষ, অনিয়ম, আর দম্ভে একের পর এক প্রকল্প লুটেপুটে খাচ্ছেন, অথচ প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া শুনলে মনে হয় কেউ কিছু জানেই না!

    প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে যে মহোৎসব চলছে তার খসড়া তালিকায় রয়েছে—RDRIIP-2, ADP, GRRIIP, LGED Rural Road Maintenance, PEDP-4 ইত্যাদি কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প। অথচ এইসব প্রকল্পের নামে প্রতিটি বিল ছাড়ে হেলালের অনিয়মিত নিয়ম—কমিশন। ৫% থেকে ১০% না দিলে বিল আটকে থাকে মাসের পর মাস। এ যেন এলজিইডিতে বৈধ টেন্ডারের আড়ালে অবৈধ চাঁদাবাজির বৈশ্বিক নমুনা।

    স্থানীয় সূত্র ও ঠিকাদারদের তথ্য অনুযায়ী, “কাজ করো, কিন্তু হেলালের খরচ না দিলে বিল ধরো না।” ‘চা-নাস্তা’ নামের মোড়কে নিয়মিত নগদ ঘুষ, আর তার জঘন্য সংস্করণ ‘সরাসরি টাকা’ তো আছেই। কোনো বিল ছাড় হোক বা কাজের মনিটরিং—হেলালের চোখ না ভেজালে উন্নয়নকাজ ফাইলেই থেকে যায়!

    এলাকার একজন ইউপি সদস্য ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে, কাজের মান শুন্য। বললে হেলাল বলে, ‘উপরে যারা আছে তারাও জানে।’ এর মানে কি উপরের সবাই মিলে খাচ্ছে?”

    এটাই প্রশ্ন—এই নির্লজ্জ দুর্নীতির পেছনে কি শুধুই প্রশাসনিক উদাসীনতা, নাকি এলজিইডির অভ্যন্তরে গজিয়ে ওঠা প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ায় হেলালের মতো নিচু পর্যায়ের প্রকৌশলীরাও বনে যাচ্ছে মাফিয়া ক্যাডার?

    যে দেশের জনগণের ট্যাক্সে কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়, সেখানে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি যদি এসব প্রকল্পকে ব্যক্তিগত আয়ের খনি বানিয়ে ফেলে—তাহলে রাষ্ট্র কোথায়? প্রশাসন কোথায়? আর হেলালের মতো ‘প্রকৌশলী’ যদি বছরের পর বছর বহাল তবিয়তে ‘দাদাগিরি’ চালাতে পারেন, তাহলে দুর্নীতি নামক রাষ্ট্রব্যাধি থেকে এদেশ কবে মুক্তি পাবে?

    পলাশবাড়ীর মানুষ এখন প্রশ্ন ছুঁড়েছে—হেলাল কি একা? না কি তার পেছনে রয়েছে এলজিইডির ভেতরে লুকিয়ে থাকা আরেকটি ‘প্রটেকশন ফোর্স’?

    এবার দরকার একটিই—একটি নিরপেক্ষ দুর্নীতিবিরোধী তদন্ত কমিটি গঠন করে মোঃ হেলালুর রহমান হেলালের বিরুদ্ধে জমে ওঠা অভিযোগগুলোর বিচার। নইলে পলাশবাড়ীর উন্নয়ন মানেই হবে—কাগজে রাস্তা, মাঠে ধ্বংস, আর হেলালের অফিসে ‘কমিশনের টাকায়’ ঢাক-ঢোল।

    এই দেশে হেলালেরা টিকে থাকে, আর জনগণের স্বপ্ন ধসে পড়ে… নির্বিঘ্নে!